ইরানে ধর্মবাদী খামেনি সরকারবিরোধী বিক্ষোভ
ইরানে ধর্মবাদী খামেনি সরকারবিরোধী বিক্ষোভ
আন্দোলন প্রতিবেদন
শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬ | অনলাইন সংস্করণ
ডিসেম্বর ’২৫-এর শেষ সপ্তাহ থেকে ইরানে খামেনি সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস-পত্রের দাম অত্যধিক বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক অধিকার হরণ এই বিক্ষোভের কারণ। রাজধানী তেহরানে কিছু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের শুরু করা এই বিক্ষোভ ৩১টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে।
২০২২ সালে ইরানি নীতি-পুলিশের দ্বারা মাশা আমিনী হত্যার পর দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভের পর এটিই সরকারবিরোধী বড় ধরনের বিক্ষোভ। দুই সপ্তাহব্যাপী এই বিক্ষোভ দমনে ইরানের ধর্মবাদী ফ্যাসিস্ট খামেনি সরকার নাগরিকদের উপর গুলি চালিয়ে এ পর্যন্ত শত শত হত্যা করেছে।
বিক্ষোভ আরো ছড়িয়ে পড়ছে এবং নিহতের সংখ্যাও বেড়ে চলেছে। ধর্মবাদী ফ্যাসিস্ট খামেনি সরকারের বিরুদ্ধে ইরানের জনগণের এই বিক্ষোভ সম্পূর্ণ ন্যায়সংগত। এই বিক্ষোভের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণ রয়েছে। ফ্যাসিস্ট শাসনক্ষমতা টিকিয়ে রাখার ব্যর্থ চেষ্টায় খামেনির সরকার জনগণের মৌলিক অধিকারের টুঁটি চেপে ধরেছে। আর এর আদর্শগত ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে ধর্মী ফ্যাসিবাদ।
জনগণ খামেনি সরকারকে ‘ডিক্টেটর’ বলে সরকার পতনের রাজনৈতিক স্লোগান দিচ্ছেন। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি, নিরাপত্তাহীনতা, জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, ডলারের দরপতনের কারণে বিক্ষুব্ধ জনগণ রাস্তায় নেমেছেন। খামেনি সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের বিদ্রোহ-বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ বিক্ষোভকারীদের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট জায়নবাদী খুনি নেতানিয়াহুও ইরানি জনগণের পক্ষে থাকার কথা বলেছে। এসব ঘোষণা মূলত চীন-রাশিয়া পন্থি খামেনি সরকারের পতন ঘটিয়ে মার্কিনপন্থি সরকার প্রতিষ্ঠা করার ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছু নয়।
প্রকৃতপক্ষে সাম্রাজ্যবাদী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্যাসিস্ট ট্রাম্প এবং খুনি নিতানিয়াহু কখনোই গণতন্ত্রকামী ইরানি জনগণের বন্ধু হতে পারে না। বন্ধুর বেশে এরা লুট-পাটকারী সন্ত্রাসী গণশত্রু ছাড়া আর কিছু নয়। ফিলিস্তিন-ভেনেজুয়েলার কাণ্ড তার চাক্ষুস প্রমাণ। ইরানি জনগণকে তাই আন্দোলনের শত্রু-মিত্র নির্ধারণ করে আন্দোলনের গতিপথ ঠিক করতে হবে। তা না হলে গণবিরোধী এক শাসকগোষ্ঠীর পরিবর্তে সাম্রাজ্যবাদের সেবাদাস আরেক গণবিরোধী শাসকগোষ্ঠীর খপ্পরে পড়তে হবে।
বাংলাদেশসহ দেশে দেশে জেন-জিদের আন্দোলনে তেমনটিই ঘটে চলেছে।
ইরানি জনগণকে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে সকল সাম্রাজ্যবাদ-জায়নবাদবিরোধী নিপীড়িত শ্রেণি-পেশার জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এর ভিত্তিতেই খামেনির ধর্মবাদী ফ্যাসিস্ট শাসনের বিরুদ্ধেও সোচ্চার থাকতে হবে। এবং মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদী আদর্শের ভিত্তিতে শ্রমিকশ্রেণির নেতৃত্বে বিপ্লবী সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে। কারণ শ্রমিকশ্রেণির আদর্শ ও নেতৃত্ব ছাড়া বিশ্বে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হতে পারে না। এজন্য ইরানি শ্রমিক-কৃষক-নারী-মধ্যবিত্ত-দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতার সম্মিলিত সংগঠিত প্রতিবাদ-প্রতিরোধ-বিদ্রোহের মাধ্যমে দেশব্যাপী বিপ্লবী লড়াকু আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ইরানে ধর্মবাদী খামেনি সরকারবিরোধী বিক্ষোভ
ডিসেম্বর ’২৫-এর শেষ সপ্তাহ থেকে ইরানে খামেনি সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস-পত্রের দাম অত্যধিক বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক অধিকার হরণ এই বিক্ষোভের কারণ। রাজধানী তেহরানে কিছু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের শুরু করা এই বিক্ষোভ ৩১টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে।
২০২২ সালে ইরানি নীতি-পুলিশের দ্বারা মাশা আমিনী হত্যার পর দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভের পর এটিই সরকারবিরোধী বড় ধরনের বিক্ষোভ। দুই সপ্তাহব্যাপী এই বিক্ষোভ দমনে ইরানের ধর্মবাদী ফ্যাসিস্ট খামেনি সরকার নাগরিকদের উপর গুলি চালিয়ে এ পর্যন্ত শত শত হত্যা করেছে।
বিক্ষোভ আরো ছড়িয়ে পড়ছে এবং নিহতের সংখ্যাও বেড়ে চলেছে। ধর্মবাদী ফ্যাসিস্ট খামেনি সরকারের বিরুদ্ধে ইরানের জনগণের এই বিক্ষোভ সম্পূর্ণ ন্যায়সংগত। এই বিক্ষোভের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণ রয়েছে। ফ্যাসিস্ট শাসনক্ষমতা টিকিয়ে রাখার ব্যর্থ চেষ্টায় খামেনির সরকার জনগণের মৌলিক অধিকারের টুঁটি চেপে ধরেছে। আর এর আদর্শগত ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে ধর্মী ফ্যাসিবাদ।
জনগণ খামেনি সরকারকে ‘ডিক্টেটর’ বলে সরকার পতনের রাজনৈতিক স্লোগান দিচ্ছেন। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি, নিরাপত্তাহীনতা, জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, ডলারের দরপতনের কারণে বিক্ষুব্ধ জনগণ রাস্তায় নেমেছেন। খামেনি সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের বিদ্রোহ-বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ বিক্ষোভকারীদের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট জায়নবাদী খুনি নেতানিয়াহুও ইরানি জনগণের পক্ষে থাকার কথা বলেছে। এসব ঘোষণা মূলত চীন-রাশিয়া পন্থি খামেনি সরকারের পতন ঘটিয়ে মার্কিনপন্থি সরকার প্রতিষ্ঠা করার ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছু নয়।
প্রকৃতপক্ষে সাম্রাজ্যবাদী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্যাসিস্ট ট্রাম্প এবং খুনি নিতানিয়াহু কখনোই গণতন্ত্রকামী ইরানি জনগণের বন্ধু হতে পারে না। বন্ধুর বেশে এরা লুট-পাটকারী সন্ত্রাসী গণশত্রু ছাড়া আর কিছু নয়। ফিলিস্তিন-ভেনেজুয়েলার কাণ্ড তার চাক্ষুস প্রমাণ। ইরানি জনগণকে তাই আন্দোলনের শত্রু-মিত্র নির্ধারণ করে আন্দোলনের গতিপথ ঠিক করতে হবে। তা না হলে গণবিরোধী এক শাসকগোষ্ঠীর পরিবর্তে সাম্রাজ্যবাদের সেবাদাস আরেক গণবিরোধী শাসকগোষ্ঠীর খপ্পরে পড়তে হবে।
বাংলাদেশসহ দেশে দেশে জেন-জিদের আন্দোলনে তেমনটিই ঘটে চলেছে।
ইরানি জনগণকে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে সকল সাম্রাজ্যবাদ-জায়নবাদবিরোধী নিপীড়িত শ্রেণি-পেশার জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এর ভিত্তিতেই খামেনির ধর্মবাদী ফ্যাসিস্ট শাসনের বিরুদ্ধেও সোচ্চার থাকতে হবে। এবং মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদী আদর্শের ভিত্তিতে শ্রমিকশ্রেণির নেতৃত্বে বিপ্লবী সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে। কারণ শ্রমিকশ্রেণির আদর্শ ও নেতৃত্ব ছাড়া বিশ্বে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হতে পারে না। এজন্য ইরানি শ্রমিক-কৃষক-নারী-মধ্যবিত্ত-দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতার সম্মিলিত সংগঠিত প্রতিবাদ-প্রতিরোধ-বিদ্রোহের মাধ্যমে দেশব্যাপী বিপ্লবী লড়াকু আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে।
আরও খবর
- শনি
- রোব
- সোম
- মঙ্গল
- বুধ
- বৃহ
- শুক্র